ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ধলাইয়ে অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার

ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ধলাইয়ে অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার

সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদ। ফাইল ছবি

ধলাই সেতুতে বালু লুটের নেপথ্য চিত্র: প্রশাসনের অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, ফাঁকা গুলি, আটক ৬ ও কারাদণ্ড—পেছনে কারা?

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই সেতু এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, ফাঁকা গুলি ও ব্যাপক উত্তেজনার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে দীর্ঘদিনের বালু সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে।

রোববার (৩ মে) রাত সাড়ে ৭টার দিকে ধলাই ব্রিজ এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বালু সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার সদস্য ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয় এবং পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চারজনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইউএনও মোহাম্মদ রবিন মিয়া ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদারের নেতৃত্বে একটি দল ধলাই ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়। তবে ট্রাক্টর আটকের পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইউএনও’র নিরাপত্তায় থাকা আনসার সদস্য ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আটক ট্রাক্টর মালিককে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে কলাবাড়ী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ পথচারী ও দোকানদারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ধলাই ব্রিজ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চললেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনিক নজরদারি এড়িয়ে বালু উত্তোলন চালিয়ে আসছে। তারা বলেন, শুধু অভিযান নয়, মূল সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা দরকার।

সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেলের আঘাতে উপজেলা প্রশাসনের চার কর্মচারী আহত হন বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় পুলিশ বা বিজিবি উপস্থিত না থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানায় প্রশাসন।

এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক ছয়জনের মধ্যে দুজনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয় এবং চারজনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মো. তেরা মিয়া (৫৫), মো. মাসুক (৪৫), মো. গিয়াস (৩০) ও মো. মিসছবাহ উদ্দিন (২০)।

বিশ্লেষকদের মতে, ধলাই নদী ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ধরে একটি শক্তিশালী চক্র স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও শ্রমিক গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে এই বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। ফলে যখনই প্রশাসন অভিযান চালাতে যায়, তখনই উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তারা আরও মনে করেন, এই অভিযানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিজিবির অনুপস্থিতি এবং শুধুমাত্র আনসার সদস্যদের ওপর নির্ভরতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে “ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনা” প্রশাসনিক প্রস্তুতির ঘাটতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন কর্মকার বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ভোলাগঞ্জ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর মিয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছয়জনকে আটক করা হয়।

ইউএনও মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, অভিযান চলাকালে হামলার পরিস্থিতি তৈরি হলে নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তিনি আরও জানান, পুলিশ ও বিজিবি ছাড়া এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা যায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff